• iconComilla
  • iconinfo@alheramadrasa.com

একটি অনলাইন ভিত্তিক দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

icon

বিস্তারিত জানতে কল করুন

01845743865

রমজান মাসে একজন মুমিনের করণীয়।

Blog Details

রমজান মাসে একজন মুমিনের করণীয়।

রমজান মাসে একজন মুমিনের করণীয়।
যদি কেউ কোন ভালো কাজ করার ইচ্ছে করে- তবে সে তা করতে পারে। আল্লাহ তাকে তা পালন করার ব্যবস্থা করে দেন। হাদিসে এসেছে-
وَمَنْ يَسْتَعْفِفْ يُعِفَّهُ اللَّهُ، وَمَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللَّهُ، وَمَنْ يَتَصَبَّرْ يُصَبِّرْهُ اللَّهُ،
অর্থাৎ, "কেউ যদি চায়, যদি কেউ মনে মনে এই সংকল্প করে যে, আমি মানুষের কাছে হাত পাতব না, তাহলে আল্লাহ তাকে মানুষের দ্বারস্থ করেন না। যদি কেউ গোনাহমুক্ত পবিত্র জীবন যাপন করতে চায়, আল্লাহ তাকে গোনাহমুক্ত পবিত্র জীবন যাপন করার ব্যবস্থা করে দেন। যদি কেউ ইবাদতে অটল থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে ইবাদতে অটল থাকার ব্যবস্থা করে দেন।" (তিরমিযি: ২৮৫০)
এ হাদিস থেকে আমরা জানতে পারলাম, নেক কাজ করার দৃঢ় সংকল্প করলে, আল্লাহ পাক আমাদেরকে তা পালন করার ব্যবস্থা করে দিবেন। কাজেই আমার যদি দৃঢ় সংকল্প করে নেই যে, রমজান মাসে কোন গুনাহ করব না এবং রমজানের পরিপূর্ণ হক আদায় করবো তাহলে আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে এগুলো পালন করার ব্যবস্থা করে দিবেন।
আরবিতে একটি প্রবাদ বাক্য আছে-
الهمة هي الاسم الأعظم.
অর্থাৎ, 'হিম্মত বা মনের দৃঢ় সংকল্প হলো, ইসমে আযম।'
ইসমে আযম হলো, একটি বিশেষ দুআ, যা পড়ে পার্থনা করলে আল্লাহ তায়ালা তৎক্ষণাৎ তা কবুল করে নেন।
তাই রমজান মাসে আমাদের মৌলিক কর্মসূচি কি হবে তা কুরআন হাদিসের আলোকে তুলে ধরা হল:
------
রামাযানে একজন মুমিনের মৌলিক কর্মসূচি:
হাজারো কল্যাণ ও মুক্তির সওগাত নিয়ে বছর ঘুরে আবারও আমাদের অতি নিকটে চলে এসেছে মাহে রামাযান। শা‘বানের শেষ প্রহরে এসে আমরা এই দু‘আ করছি, ‘দয়াময়! আমাদেরকে সুস্থভাবে রামাযানের কল্যাণ লাভের তাওফীক্ব দাও’। প্রকৃতপক্ষে রামাযান মাস পাওয়া একজন মুমিনের জন্য আল্লাহর পক্ষ হতে বিশেষ দয়া ও নেয়ামত। আলোচ্য প্রবন্ধে রামাযানে একজন মুমিনের কী কর্মসূচি হওয়া উচিত, সে বিষয়ে সংক্ষিপ্ত পরিসরে কিছু আলোকপাত করা হলো।
(১) দিনে ছিয়াম পালন করা : রামাযানের প্রথম ও প্রধান কর্মসূচি হলো ছিয়াম পালন করা। প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও মুক্বীম মুসলিম নর-নারীকে ফরয ছিয়াম রাখতেই হবে। মহান আল্লাহ বলেন,﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ﴾ ‘হে মুমিনগণ! তোমাদের উপর ছিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেভাবে ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যাতে তোমরা তাক্বওয়া অবলম্বন কর’ (আল-বাক্বারা, ২/১৮৩)। আবূ হুরায়রা c বলেন, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন,مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ‘যে ব্যক্তি ঈমানসহ ছওয়াবের আশায় রামাযানে ছিয়াম পালন করবে, তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করা হবে’।[1]
(২) রাতে ক্বিয়াম করা তথা তারাবীহ পড়া : রামাযান মাসে রাতে তারাবীহ পড়ার মাধ্যমে আমরা বহু নেকীর অধিকারী হতে পারি। আবূ হুরায়রা c বলেন, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, مَنْ قَامَهُ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ‘যে ব্যক্তি ঈমানসহ ছওয়াবের আশায় রামাযানে তারাবীহ পড়বে, তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করা হবে’।[2]
(৩) দান-ছাদাক্বা করা : রামাযান মাসে বেশি বেশি দান-ছাদাক্বা করা উচিত। রাসূলুল্লাহ a রামাযান মাসে বেশি বেশি দান করতেন। হাদীছে এসেছে, ইবনু আব্বাস c বলেন,أَجْوَدَ النَّاسِ بِالْخَيْرِ وَكَانَ أَجْوَدُ مَا يَكُونُ فِي رَمَضَانَ حِينَ يَلْقَاهُ جِبْرِيلُ ‘নবী করীম a ধনসম্পদ ব্যয় করার ব্যাপারে সকলের চেয়ে দানশীল ছিলেন। আর রামাযানে জিবরীল e যখন তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন, তখন তিনি আরও অধিক দান করতেন’।[3]
(৪) কুরআন পড়া : রামাযান কুরআনের মাস। আল্লাহ বলেন,﴿شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ﴾ ‘রামাযান মাস, যে মাসে বিশ্বমানবের জন্য পথ-প্রদর্শন এবং সুপথের উজ্জ্বল নিদর্শন এবং হক্ব ও বাতিলের প্রভেদকারী কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে’ (আল-বাক্বারা, ২/১৮৪)। তাই আসুন! কুরআনের মাসে বেশি বেশি কুরআন পড়ি। ইবনু উমার h বলেন, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন,الصِّيَامُ وَالْقُرْاٰنُ يَشْفَعَانِ لِلْعَبْدِ، يَقُوْلُ الصِّيَامُ : أَيْ رَبِّ! إِنِّىْ مَنَعْتُهُ الطَّعَامَ وَالشَّهَوَاتِ بِالنَّهَارِ، فَشَفِّعْنِىْ فِيهِ، وَيَقُولُ الْقُرْاٰنُ : مَنَعْتُهُ النُّوْمَ بِاللَّيْلِ فَشَفِّعْنِىْ فِيهِ، فَيُشَفَّعَانِ ‘ছিয়াম এবং কুরআন বান্দার জন্য শাফাআত করবে। ছিয়াম বলবে, হে রব! আমি তাকে দিনে খাবার গ্রহণ করতে ও প্রবৃত্তির তাড়না মিটাতে বাধা দিয়েছি। অতএব, তার ব্যাপারে এখন আমার শাফাআত কবুল করো। কুরআন বলবে, হে রব! আমি তাকে রাতে ঘুম থেকে বিরত রেখেছি। অতএব, তার ব্যাপারে এখন আমার সুপারিশ গ্রহণ করো। অতঃপর উভয়ের সুপারিশই কবুল করা হবে’।[4]
(৫) আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করা : রামাযান ক্ষমার মাস। তাই রামাযান মাসে একজন মুমিনের অন্যতম কর্মসূচি হবে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করার মাধ্যমে পাপমুক্ত হওয়া। আবূ হুরায়রা c বলেন, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন,رَغِمَ أَنْفُ رَجُلٍ دَخَلَ عَلَيْهِ رَمَضَانُ ثُمَّ انْسَلَخَ قَبْلَ أَنْ يُغْفَرَ لَهُ ‘ভূলুষ্ঠিত হোক তার নাক, যার নিকট রামাযান মাস এলো অথচ তার গুনাহ মাফ হয়ে যাওয়ার পূর্বেই তা পার হয়ে গেল’।[5]
(৬) বেশি বেশি নেক আমল করা : রামাযানে বেশি বেশি নেক আমল করা উচিত। কেননা রামাযানে আমলের ছওয়াব অগণিত। আমরা অনেকেই বলি, রামাযানে একটি সুন্নাত একটি ফরযের সমান আর একটি ফরয ৭০টি ফরযের সমান। আসলে এটি ভুল ধারণা। এই মর্মে হাদীছটি মুনকার/বাতিল।[6] প্রকৃতপক্ষে রামাযান মাসে আমলের ছওয়াব এত বেশি যে, ফেরেশতারা নয়; বরং এর প্রতিদান আল্লাহ নিজেই দেন।[7]
(৭) পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা : রামাযান মাসে আমাদের সকল প্রকার পাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। হাদীছে এসেছে, আবূ হুরায়রা c বলেন, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন,مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالْعَمَلَ بِهِ فَلَيْسَ للهِ حَاجَةٌ فِي أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকতে পারল না, তার খাদ্য ও পানীয় ত্যাগ করাতে আল্লাহর কিছু আসে যায় না’।[8]
(৮) বেশি বেশি দু‘আ করা : রামাযানে বেশি বেশি দু‘আ করা উচিত। আমাদের অনেকে শুধু ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে দু‘আ করে, অন্য সময় দু‘আ করে না। আসলে ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে দু‘আ কবুল করা হয় এই মর্মে হাদীছটি দুর্বল।[9] তাই শুধু ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে নই, বরং ছিয়াম অবস্থায় সারা দিন দু‘আ কবুল করা হয়। আবূ হুরায়রা c বলেন, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন,ثَلَاثُ دَعَوَاتٍ مُسْتَجَابَات لَا شَكَّ فِيهِنَّ: دَعْوَةُ الْوَالِدِ، وَدَعْوَةُ الْمُسَافِرِ، وَدَعْوَةُ الْمَظْلُومِ ‘তিন ব্যক্তির দু‘আ কবুল করা হয়— ১. ছওম পালনকারী ব্যক্তির, ২. মুসাফির ব্যক্তির এবং ৩. মাযলূম ব্যক্তির’।[10]
(৯) ইফতার করানো : রামাযানের কর্মসূচির মধ্যে অন্যতম কর্মসূচি হলো অন্যজনকে ইফতার করানো। হাদীছে এসেছে, যায়েদ ইবনু খালেদ আল-জুহানী c বলেন, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন,مَنْ فَطَّرَ صَائِمًا كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِهِ غَيْرَ أَنَّهُ لاَ يَنْقُصُ مِنْ أَجْرِ الصَّائِمِ شَيْئًا ‘কোনো ছিয়াম পালনকারীকে যে লোক ইফতার করায় সে লোকের জন্যও ছিয়াম পালনকারীর সমপরিমাণ ছওয়াব রয়েছে। কিন্তু এর ফলে ছিয়াম পালনকারীর ছওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না’।[11]
(১০) শেষ দশ রাতে বেশি বেশি ইবাদত করা : রামাযানের সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হলো শেষ দশ রাতে বেশি বেশি ইবাদত করা। আয়েশা g বলেন,كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَجْتَهِدُ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مَا لاَ يَجْتَهِدُ فِي غَيْرِهَا ‘রামাযানের শেষ দশ দিন রাসূলুল্লাহ a (ইবাদতে) এত বেশি সাধনা করতেন যে, অন্য কোনো সময়ে এরকম সাধনা করতেন না’।[12] এর উদ্দেশ্য হলো যাতে করে ক্বদরের রাত্রিটি ছুটে না যায়। কেননা রাসূলুল্লাহ a বলেছেন,إِنَّ هَذَا الشَّهْرَ قَدْ حَضَرَكُمْ وَفِيهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ مَنْ حُرِمَهَا فَقَدْ حُرِمَ الْخَيْرَ كُلَّهُ وَلَا يُحْرَمُ خَيْرَهَا إِلَّا مَحْرُومٌ ‘তোমাদের নিকট এ মাস সমুপস্থিত। এতে রয়েছে এমন এক রাত, যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। এ থেকে যে ব্যক্তি বঞ্চিত হলো, সে সমস্ত কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হলো। কেবল বঞ্চিত ব্যক্তিরাই তা থেকে বঞ্চিত হয়’।[13] তাই আমাদের প্রত্যেককে শেষ দশ রাতে বেশি বেশি ইবাদতে জোর দিতে হবে, যাতে করে কোনোভাবেই ক্বদরের রাতটি ছুটে না যায়। আবূ হুরায়রা c বলেন, রাসূলুল্লাহ a বলেছেন, مَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ‘যে ব্যক্তি লায়লাতুল ক্বদরে ঈমানের সাথে ছওয়াবের আশায় রাত জেগে ইবাদত করে, তার পিছনের সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করা হবে’।[14]
উপসংহার : পরিশেষে আল্লাহ রব্বুল আলামীন আমাদেরকে রামাযান মাসের মর্যাদা রক্ষা করে তার যথাযথ হক্ব আদায় করার তাওফীক্ব দান করুন- আমীন!

Comment (17)

  • Reviews
    LNHkxRRNYleTvLpPl
    09 Nov 2023

    kkHippkuXYVPuuWAcprkjQwPXJJ

  • Reviews
    CjBFsuiPEEjqS
    18 Nov 2023

    ujqjxdPXyIyKPrNIyw

  • Reviews
    WIApesVFyxFAsb
    23 Nov 2023

    ESiVmpVqylavSjAQYqdQKW

  • Reviews
    Jordan
    26 Nov 2023

    Everest Waller

  • Reviews
    Elliot
    02 Dec 2023

    Amiyah Weber

  • Reviews
    Oaklynn
    09 Dec 2023

    Kai Small

  • Reviews
    Cayson
    13 Dec 2023

    Rowyn Hartman

  • Reviews
    Sariyah
    23 Dec 2023

    Nathalia Brady

  • Reviews
    Lawson
    01 Jan 2024

    Catherine Costa

  • Reviews
    Clara
    08 Jan 2024

    Onyx Welch

  • Reviews
    Cora
    12 Jan 2024

    Darius Vu

  • Reviews
    Milan
    05 Feb 2024

    Dylan Howe

  • Reviews
    Taytum
    16 Feb 2024

    Lukas Pugh

  • Reviews
    Colin
    03 Mar 2024

    Ayaan Wiley

  • Reviews
    markese
    16 Mar 2024

    markese segarelli

  • Reviews
    Winnie
    07 Apr 2024

    Jazmin Schaefer

  • Reviews
    Alixon
    19 Apr 2024

    Alixon Torelli

Leave a comment